লক্ষ টাকা বকেয়া, খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কার্যক্রম

0

জি.এম ফারুক আলম, মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি : খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে যশোরের মণিরামপুর ডিজিটাল
টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কার্যক্রম। লাখ লাখ টাকার বিল বকেয়াসহ কেবল চুরি, খারাপ এবং মেরামতের অভাবে গ্রাহক
একবারেই নিন্ম পর্যায় নেমে এসেছে। শুধুমাত্র সরকারি ও গুরুত্বপূর্ণ অফিস ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ে ল্যান্ডফোন ব্যবহার নেই
বললেই চলে। সাধারন গ্রাহকদের অভিযোগ বছরের পর বছর ল্যান্ডফোন বিকল হলেও সংশ্লিষ্ট অফিসে জানিয়েও মেরামতের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। গ্রাহক সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।২০০১ সালে এ টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি ডিজিটালে
উত্তির্ণ হলে গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৬’শ বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে তা একশ’তে নেমে এসছে। দায়িত্বশীলরা বেসরকারি মোবইল
অপারেটর কোম্পানির বহুল ব্যবহারেই ল্যান্ডফোনের এমন বেহাল দশা বলে দুষলেন। এর ফলে সরকার মোটা অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে সচেতন মহলের দাবি। জানাযায়, বিটিসিএল (বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন
কোম্পানি লিমিেিটড) আওতায় ২০০১ সালের ২ নভেম্বর তৎকালিন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্থানীয়
এমপি প্রয়াত খান টিপু সুলতাননের উদ্বোধনের মাধ্যমে উপজেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ অফিসে
রুপান্তরিত হয়। এক পর্যায় এ অফিসের আওতায় এর গ্রাহক  সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৫’শ ৯৬ জনে। কিন্তু পরবর্তিতে কেবল
চুরি, খারাপ ও মেরামতের অভাবে গ্রাহক সংখ্যা কমে মাত্র ২’শ ২৫ জনে নেমে এসেছে। কিন্তু এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসকারি অফিস ছাড়া ব্যক্তি পর্যায়ের সংযোগগুলো অকেজো হয়ে আছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় অর্ধশত গ্রাহক নিয়ে চলেছে
উপজেলার এ ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসটি। মণিরামপুর উপজেলা ডিজিটাল এক্সচেঞ্জ অফিসের বেহাল দশার কারন
খুঁজতে গত ৮ মার্চ সংশ্লিষ্ট অফিসে গেলে অপারেটর কোহিনূর  ছাড়া আর কারো দেখা মেলেনি। এ সময় দায়িত্বরত সহকারি
প্রকৌশলী আসাদুর রহমানের টেলিটক নম্বরধারি মুঠোফোনে  যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই দিন কেশবপুর অফিসে জানিয়ে আগামী রোববার অফিসে আসতে বলেন। ১১ মার্চ রোববার অফিসে গিয়ে এসব নিয়ে জানতে চাইলে মণিরামপুর
ডিজিটাল টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের দায়িত্বরত সহকারি প্রকোশলী আসাদুর রহমান বলেন, তিনি নিজে কেশবপুর ও মণিরামপুর দুই উপজেলার অফিস করছেন। জনবল সংকটসহ নানা কারনে সেবার মান বৃদ্ধি করা সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া বকেয়া বিলের কারনেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে এসব ব্যাপারে  বার বার অবহিত করেও আশানুরুপ কিছু হচ্ছে না। এ সময় বকেয়া বিলের পরিমান জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি যশোর রাজস্ব (বিটিসিএল) শাখায় যোগাযোগ করতে বলেন। জেলা রাজস্ব
অফিসের ল্যান্ডফোনে ফোন করলে অপর প্রান্ত থেকে রবিউল ইসলাম  নামের এক ব্যক্তি ফোনটি রিসিভ করেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে  বকেয়া বিলের পরিমান জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি জানতে খুলনা রাজস্ব অফিসের কর্মকর্তা জনৈক আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এরপর থেকে গত তিন দিন ০৪১-৭৬১১১৩ নম্বরধারি ল্যান্ডফোনে বার বার রিং করলেও কেউ রিসিভ করেনি। পুনরায় জেলা রাজস্ব অফিসে যোগাযোগ করা হলে তিনি এবার  মণিরামপুর অফিসে যোগাযোগ করতে বলেন। মঙ্গলবার মণিরামপুর অফিসে গিয়ে জানতে চাইলে দায়িত্বরত  আসাদুর রহমান পুরাতন ফাইল ঘাটাঘাটির এক পর্যায় ২০১৪সালের ডিসেম্বর-জুন পর্যন্ত বকেয়া বিলের হিসেব দেখিয়ে বলেন, এই পর্যন্ত বকেয়া বিলের পরিমান ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫’শ ৬৬ টাকা। এরপর আবারো জেলা রাজস্ব অফিসে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে জানানো হয় উর্দ্ধতন কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে তথ্য দেয়া সম্ভব নয়। এক পর্যায় তিনি বলেন, মণিরামপুর অফিস থেকে যে হিসাব বলা হয়েছে তার থেকে বকেয়া বিলের পরিমান আরো অনেক বেশী বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মতিয়ার রহমান নামের মণিরামপুর অফিসের বিল বিতরনকারি জানান, এখন প্রতিমাসে ২শ’ ২৬টি বিল আসে। কিন্তু এর মধ্যে অর্ধশত গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস ছাড়া বাকি ল্যান্ডফোন অকেজো। খালেকুজ্জামান, মোশাররফ হোসেনসহ একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, কেবল ছিড়ে তাদের ল্যান্ডফোন প্রায় ২ বছর অকেজো হয়ে আছে। বার বার সংশ্লিষ্ট অফিসে জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। অথচ প্রতিমাসে বিল আসছে। এ নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় আছেন তারা। এদিকে সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বশীলদের অবহেলার কারনে এমটি হচ্ছে মনে করে ল্যান্ডফোনের ব্যবহার কমে আসায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও তাদের দাবি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here